
রাজশাহী নগরীর শিরোইল কলোনিতে শিশু অপহরণের অভিযোগে লুবনাত জাহান লাবনী (৪০) নামে এক টিকটকারকে আটক করেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়া ওই নারীকে পরে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিরোইল কলোনির ২ নম্বর গলিতে এ ঘটনা ঘটে। অপহৃত শিশুর নাম মরিউম (১)। সে শিরোইল কলোনি এলাকার শামিম হোসেন জনির মেয়ে।
মরিউমের মা আকতার বানু ময়না জানান, বুধবার সকাল ৬টার দিকে যখন তিনি ছাদে কাপড় মেলতে গিয়েছিলেন, তখন অপহরণকারী লুবনাত জাহান লাবনী তাদের বাসায় ঢুকে পড়ে। এ সময় মরিউমের বড় মেয়ে অন্তরা (৮) চিৎকার করে বলতে থাকে যে, এক মহিলা মরিউমকে কোলে করে নিয়ে যাচ্ছে। নিচে নেমে এসে মরিউমের মা দেখতে পান, ওই নারী শিশুর গলায় কাঁইচি ধরে তাকে হত্যার হুমকি দিতে থাকেন।
এই পরিস্থিতিতে মরিউমের বাবা শামিম হোসেন জনি এগিয়ে এলে অপহরণকারী নারী তাকে কাঁইচি দিয়ে আঘাত করেন এবং তার শরীরে খামচি দিতে থাকেন। এরপর স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অপহরণকারী নারীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। এর আগে অপহরণকারীর হাতে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে একটি কাপড় কাটা কাঁইচি, গাঁজা খাওয়া কল্কি ও বিভিন্ন ধরনের ওষুধ জব্দ করেন স্থানীয়রা। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আলেক্সা আসিফ (Alexa Asif) নামে একটি টিকটক আইডি রয়েছে লাবনীর। তার বাড়ি ঢাকার সাভার এলাকায়।
এ বিষয়ে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাবনীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে তার দেওয়া উত্তরগুলো অসঙ্গতিপূর্ণ এবং একেকবার একেকরকম কথা বলেন। তিনি কোনো সঠিক তথ্য দিচ্ছে না। তিনি আরো জানান, ভুক্তভোগী পরিবার কোনো লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় অভিযুক্ত নারীকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয়দের কিছু ব্যক্তি দাবি করেছেন যে, লাবনী মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, অথবা তিনি মানসিক সমস্যার অভিনয় করছেন। তার মানসিক অবস্থা নিয়ে নানা সন্দেহ রয়েছে।