
নেত্রকোনার হাওর অঞ্চল খালিয়াজুরী উপজেলার দুই স্থানে ও কেন্দুয়া উপজেলায় গ্রামবাসীর মধ্যে পূথক সংঘর্ষে অন্তত ৬৫ জন আহত হয়েছে। বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত খালিয়াজুরীর পাঁচহাট, লক্ষীপুর গ্রামে এবং কেন্দুয়ায় বলাইশিমুল ও ছবিলা গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা একে ফজলুল হক জানান, সংঘর্ষে খালিয়াজুরীর আহতদের মধ্যে পাঁচহাট গ্রামের সালাম মিয়া (৬২) ও মোস্তাকিম মিয়ার (২৭) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।ওই গ্রামের সোগেরা আক্তার (২৪), পায়েম (৩২) ও শামীম চৌধুরীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রামের শফিকুল মিয়া বস্তা ফেলে গ্রামের একটি রাস্তা আটকে দিতে চেয়েছিলেন। এতে গ্রামবাসী বাঁধা দিয়েছিল। এ বিষয়ে ওই ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও নিষেধ দেয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে শফিকুলের লোকজনের সঙ্গে গ্রামের অন্যদের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সংঘর্ষে দুই গ্ৰুফের অন্তত ৪০ জন আহত হয়।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুর গ্রামে সাউন্ড বক্স দিয়ে উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে জালাল মিয়া ও আক্তার মিয়ার ছেলেদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জালাল মিয়ার ছেলেরা পাশের বাড়িতে রাতে সাউন্ড বক্স বাজাতে থাকলে আক্তার মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া নিষেধ করে। তর্কাতর্কির পর আক্তার মিয়ার ছেলে জালাল মিয়াকে মারপিট করলে জালাল মিয়া আহত হন। বুধবার দুপুরে দুই পক্ষের লোকজনের সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়।
অপরদিকে কেন্দুয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, বুধবার দুপুরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার বলাইশিমুল ও ছবিলা গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে দুই পক্ষই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়। এখন এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি।
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘এই দুই সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ পাঠানো হয়। এখন দুই গ্রামেই শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে।