
ঈদকে ঘিরে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদকে মোবাইল ফোনে অভিযোগ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ১ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের তাদের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
হাতিয়া উপজেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ইউসুফ রেজা কথোপকথনের ভিডিওটি নিজের ফেসবুক আইডিতে ছাড়েন। এতে তিনি লিখেন, হাতিয়ার যাতায়াত ব্যবস্থায় অনিয়ম ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডিসি মহোদয়কে জানানো হয়েছে। কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় পুনরায় নৈরাজ্য শুরু হয়েছে তা বের করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। হাতিয়ার মানুষকে শোষণ করার রাজনীতি আর চলতে দেয়া হবে না। সাধু সাবধান!
সন্ধ্যায় ১ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের কথোপকথনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ নোয়াখালীর সোনাপুর-চেয়ারম্যান ঘাটের ১২০ টাকার ভাড়ার জায়গায় ৩০০ টাকা নেওয়ার কথা জেলা প্রশাসককে জানান। এছাড়াও চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের সিট্রাক ভাড়া ১৫০ টাকার স্থলে ১৮০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ এবং ঢাকা-হাতিয়া রুটে কেবিন বানিজ্যের অভিযোগ জানান এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে অনুরোধ করেন। জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার আশ্বাস দেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, হাতিয়ার নিরীহ মানুষকে অদৃশ্য ইশারায় চুষে খেতে চায় একদল নৈরাজ্যকারী। তাদের কাছে সাধারণ মানুষ অসহায়। আমি চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। এই জন্য আমি আমৃত্যু লড়ে যাব।
কথোপকথনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ। তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হয়েছে, কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোথাও অসঙ্গতি পেলেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।