মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

ড. মো. মোজাহারুল ইসলামের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

খুলনা উমেশচন্দ্র লাইব্রেরিতে সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মোজাহারুল ইসলামের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠিত হয়। খুলনার ড. মো. মোজাহারুল ইসলাম এন্ড শারলি ইসলাম ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তৃতা করেন সংগঠনের সভাপতি ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার, দৈনিক শিক্ষা ডটকম ও দৈনিক আমাদের বার্তার উপদেষ্টা অধ্যাপক মাজহারুল হান্নান, প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ও দেশের স্বনামখ্যাত কার্টুনিস্ট রফিকুন নবী (রনবী), প্রখ্যাত লেখক শওকত ওসমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বুলবন ওসমান, ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ।

যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও খুলনার কৃতি সন্তান ড. মো. মোজাহারুল ইসলামের ত্রয়োদশ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ স্মারক বক্তৃতা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। চলতি বছর সাত শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দিয়েছে ড. মো. মোজাহারুল ইসলাম-শার্লী ইসলাম ফাউন্ডেশন।

যারা এ বৃত্তি পেয়েছেন তারা হলো- খুলনার রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. আছাফুর রহমান, খুলনার হ্যানে রেলওয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন, করিমুন্নেছা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী হাজেরা আক্তার খাদিজা, খালিশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিয়ার নূর, পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. রাসেল, খুলনা নেছারিয়া কামিল মাদরাসার দাখিল পরীক্ষার্থী মো. নাইমুল ইসলাম এবং দৌলতপুর মুহসীন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মারুফা।

স্মরণ সভায় প্রয়াত ড. মোজাহারুল ইসলামের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন, সামাজিক জীবন ও সাহিত্য জীবনসহ তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক নিয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন বক্তারা। খুলনার লেখক সাহিত্যিক সাংবাদিক গুণীজন উপস্থিত থেকে প্রাণবন্ত এ আলোচনা উপভোগ করেন।

প্রসঙ্গত যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোজাহারুল ইসলাম ছিলেন কম্পিউটার বিজ্ঞানী, শিক্ষক ও জ্ঞানের একনিষ্ঠ সাধক। ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ এপ্রিল তিনি ক্যামব্রিজে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সেদিন নিজ বাসভবন থেকে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য যাচ্ছিলেন, ঠিক তখন সেন্ট জনস কলেজের সামনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম কম্পিউটারটি তিনি নিজেই পরিচালনা করতেন। তার পরিচালিত কম্পিউটারটি বর্তমানে জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। ড. মো. মোজাজারুল ইসলাম শিক্ষকতা জীবনের অর্জিত অর্থের সঞ্চয় থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর প্রয়াত স্ত্রী শার্লী ইসলামের স্মরণে লাইব্রেরি নির্মাণে প্রায় কোটি টাকা দিয়েছিলেন। এছাড়া ড. মো. মোজাহারুল ইসলাম ও শার্লী ইসলাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তিসহ নানা সুবিধা দেয়া হচ্ছে।