বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯

যশোরে হত্যা করে পালানোর পথে কুমিল্লায় আটক খুনি

যশোরে হত্যাকাণ্ডের শিকার বরিশালের ট্রাক মালিক রেজাউল হত্যা মামলার প্রধান আসামী হৃদয়কে কুমিল্লা থেকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি রেজাউলের ট্রাক এবং ব্যবহৃত মোবাইলও উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। আটক হৃদয় মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার পশ্চিম নথুরা গ্রামের বাসিন্দা।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কাঠেরপুলে এলাকায় অভিযান চালিয়ে হৃদয়কে আটক করেন। যশোরের ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রুপন কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।

তিনি জানান, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয় স্বীকার করেছেন যে রেজাউলের কাছে তিনি টাকা পেতেন। কিন্তু টাকা না দেয়ায় ক্ষোভে রেজাউলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সাতক্ষীরার ভোমরা থেকে বসুন্দিয়া আসার পথে গত ২১ জুন রাত ২ টার দিকে যশোর খুলনা রোডের মুড়লী রেল ক্রসিং পার হওয়ার পর রেজাউল ট্রাকের ভেতরে ঘুমিয়ে পড়েন। এই সুযোগে হৃদয় ঘুমন্ত অবস্থায় গলায় রশি পেঁচিয়ে রেজাউলকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ পুকুরে ফেলে দিয়ে ট্রাক ও মোবাইল ফোন নিয়ে চম্পট দেন। ট্রাক নিয়ে তিনি কুষ্টিয়া খোকসায় চলে যায়। সেখান থেকে পেঁয়াজ নিয়ে কুমিল্লার চান্দিনা কাঠেরপুল পেঁয়াজের আড়তে যান। পরে ট্রাকের নাম্বার প্লেটটি পালটিয়ে ফেলেন। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে আটক করেছে।

নিহত রেজাউল বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার টরকীর চর গ্রামের ইউনুস বয়াতি ও মমতাজের ছেলে। তিনি নিজের ট্রাক নিজেই চালাতেন।

গত ২১শে জুন যশোর জেলার সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের পদ্মবিলার ঘুনি নাথপাড়া একটি পুকুর থেকে ট্রাক চালক রেজাউলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পরে তার পরিচয় সনাক্ত করে পরিবারকে খবর দেয়া হয়। রেজাউলের স্ত্রী হাসিনা বেগম যশোরে এসে হেলপার হৃদয়কে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি পুলিশ। ঘটনার তিনদিনের মাথায় যশোরের ডিবির এসআই মফিজুল ইসলাম, এসআই জাকির হোসেন, এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুনের সমন্বয়ে একটি দল কুমিল্লা জেলা থেকে হৃদয়কে আটক করে। গতকাল শুক্রবার তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।