বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯

কোরবানির বাজারে দাপট দেখাতে আসছে কুষ্টিয়ার শের খান

নাশতা তো নয় যেন রাজভোজ। হুজুরে হাজির করতে হয়, আপেল, মালটা,কলা,আঙুরসহ বিভিন্ন ফলমূল। পাশাপাশি তিন বেলা আহারে চাই ২৫ থেকে ৩০ কেজি স্বাভাবিক সুষম খাবার। চাল-চলনে নবাবি ভাব-সাবের কমতি নেই। তাই, তার নাম রাখা হয়েছে "শের খান।"

বলছিলাম কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের ধুবইল হাজীপাড়া গ্রামের আকমাল ইসলামের ছেলে ও প্রান্তিক খামারি নাঈম ইসলামের সখের পোষা গরু শের খানের কথা।

দীর্ঘ চার বছর ধরে ফিজিয়ান জাতের গরুটি নিজের সন্তানের মত লালন পালন করে বড় করেছেন। শের খান নামের মধ্যেই কেমন যেনও একটি আভিজাত্যের ছোঁয়া। প্রভাবশালী প্রভাবশালী ভাব। কেনইবা আভিজাত্যের স্পর্শ আর প্রভাবশালী ভাব থাকবে না? আজ অবধি গোটা কুষ্টিয়া জেলা বা এর আশেপাশে এতো বড় গরুর দেখা মেলেনি।

সাদা-কালো ডোরাকাটা ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় গরুটি'কে ঘিরে স্বপ্ন দেখছেন খামারি নাঈম ইসলাম ও তার পরিবার । শের খান বিশাল দেহের অধিকারী হলেও বেশ শান্তশিষ্ট। কাউকে আক্রমণ করার চেষ্টা করে না। খামারি নাঈম ইসলাম বলেন শের খানের ওজন প্রায় ১ হাজার ৬'শ কেজি বা ৪০ মণ। মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা।

নাঈম ইসলাম বলেন, শের খানকে লালন পালন করে মোটা তাজা করতে তিনি কোনও ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার করেননি। বংশ পরম্পরায় তারা গরুর খামারি। ছোটবেলা থেকেই গরু লালনপালন করেন। চার বছর আগে গরুর হাট থেকে গরুটি মাত্র ৭০ হাজার টাকায় কিনে আনেন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র সাত মাস। সে থেকেই শের খানকে অপত্য স্নেহে লালন পালন করা হয়।

গরুটির পরিচর্যায় তার সাথে বাবা আকমাল ইসলাম, ছোট ভাই নাহিদ ইসলাম এবং মা বেশ শ্রম দেন।

নাঈম ইসলাম বলেন, গরুটি আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে, সেই সাথে বড় হতে থাকে আমাদের পরিবারের স্বপ্ন। আদর করে ভালোবেসে তারা সুঠাম বিশাল দেহের অধিকারী এই গরুটির নাম রাখেন ‘শের খান'।

এদিকে, প্রতিদিন উৎসুক মানুষ শের খানকে দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন গরুটির মালিক তরুণ উদ্যোক্তা ও খামারি নাঈম ইসলামের বাড়িতে। বিশাল আকৃতির গরুটি লালন-পালন করায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকেও মিলেছে পুরস্কার। প্রশংসিত হয়েছেন উপজেলার সেরা খামারি হিসেবেও।

মিরপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ড. এম মাহমুদুল হক বলেন, প্রতিদিন শত শত মানুষ উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকায় খামারি নাঈম ইসলামের বাড়িতে গরুটিকে দেখতে ভিড় করছেন। গরুটি দেখতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে আমরাও গিয়েছিলাম।

গরুটির মালিক স্বাস্থ্য সম্মতভাবে লালন-পালন করে গরুটিকে বড় করে তুলেছেন। তিনি আরও বলেন, গতবার আমাদের প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী হয়েছিল সেখানে নাঈম ইসলামের শের খানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে যতগুলো অ্যানিম্যাল শো করা হয়েছে তাতে শের খান হয়েছে সবার সেরা।