বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯

গ্রিন লাইন লঞ্চের কেবিন থেকে জিনের বাদশার লাশ উদ্ধার

 

ঢাকা থেকে ভোলাগামী গ্রিন লাইন লঞ্চের কেবিন থেকে জবাই করা অবস্থায় জাকির হোসেন ওরফে বাচ্চু নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এক নারী গ্রেপ্তার হয়েছেন। জিনের বাদশা পরিচয়ের ধারাবাহিকতায় অনৈতিক কর্মকান্ডের সূত্র ধরে হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটে বলে গ্রেপ্তার নারী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ বু্যরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার এমন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মূলত পরকীয়ার সূত্র ধরেই হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটে।

পরে দুপুরে পিবিআই সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, চলতি বছরের ২৯ জুলাই রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকার সদরঘাটের এমভি গ্রিন লাইন-৩ লঞ্চের তৃতীয় তলার মাস্টার ব্রিজের সঙ্গে মাস্টার কেবিনের খাটের নিচ থেকে বাচ্চুর জবাই করা লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই কেবিনে থাকা বোরকা পরিহিত এক নারীকে পরে আর দেখা যায়নি। এ ঘটনায় নিহতের প্রথম স্ত্রী সুরমা আক্তার বাদী হয়ে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত খুনি আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটির তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২ আগস্ট রাত ৩টায় ঢাকা জেলার সাভারের নবীনগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মোছা. আরজু আক্তারকে (২৩)। তার বাড়ি ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানাধীন চরটিকটা গ্রামে। তার পিতার নাম মরহুম হাফিজ উদ্দিন। নিহতের বাড়ি একই থানাধীন পূর্ব মহিষখালী গ্রামে।

পুলিশ সুপার বলেন, ২০২০ সালের এপ্রিলে আরজু বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় বাচ্চুর। তার পর থেকে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করছিলেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় স্ত্রী আরজুকে ডিভোর্স দেন বাচ্চু। গত ২৯ জুলাই সকাল ৭টার দিকে সুরমা লঞ্চে বাড়ি যাবে বলে বাচ্চুকে জানান। কিন্তু সুরমা বাচ্চুকে ফোন করে পাচ্ছিলেন না। পরে বাচ্চুর লাশ পাওয়া যায় লঞ্চের কেবিনে।

পুলিশ সুপার বলেন, বাচ্চু নিজেকে জিনের বাদশা পরিচয় দিতেন। সেই পরিচয়ের সুবাদেই আরজুর সঙ্গে প্রেম হয়। পরে তারা বিয়ে করেন। আরজুকে বিয়ে করার পরও বাচ্চু অনেক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক রাখতেন। দাম্পত্য কলহের জেরে বাচ্চু আরজুকে ৫ মাস আগে তালাক দেন। এরপর থেকেই আরজু বাচ্চুকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করতে থাকেন।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ জুলাই বাচ্চু ঢাকা থেকে লঞ্চে ভোলা যাচ্ছে বলে জানতে পারেন। কৌশলে আরজুও বাচ্চুর সঙ্গে এক সঙ্গে কেবিনে যান। সকাল ৮টায় তারা সদরঘাট থেকে ভোলার ইলিশা যাওয়ার জন্য লঞ্চে উঠেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আরজু দুধের সঙ্গে ৫টি ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে বাচ্চুকে খাইয়ে দেন। বাচ্চু অচেতন হয়ে গেলে ওড়না দিয়ে বাচ্চুর হাত-পা বেঁধে হত্যা করেন। লাশ খাটের নিচে রেখে পালিয়ে যান আরজু। আরজু বাচ্চুকে হত্যার দায় স্বীকার করে গত ২ আগস্ট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।