মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

কেন শাবিপ্রবিতে জেলে-মজুরের নামে টং দোকান

সব শ্রেণীর মানুষের প্রচেষ্টায় আর অবদানে আজকের বাংলাদেশ। সেই সব শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সম্মান জানিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) পুনঃস্থাপিত টং দোকানের নাম ‘কামলার টং’, ‘রিকশাওয়ালার টং’, ‘জাইল্লার টং’ ও ‘কুলিমজুরের টং’ নামে নামকরণ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

ঈদের ছুটি শেষে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরেছেন। আর এতেই ক্যাম্পাসের টং দোকানগুলো তার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের অনেকেই বসে আড্ডা দিচ্ছেন, কেউ কেউ গান করছেন আবার কেউ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলছেন।

শিক্ষার্থীদের একজন বলছেন, ‘জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণ দেখিয়ে সবাই যে যার মতো জনগণকে জিম্মি করে বাড়তি টাকা নিচ্ছে। জিনিসপত্রের দাম কি শুধু তাদের কাছে বেড়েছে, সাধারণ মানুষের কাছে বাড়েনি? এভাবে সবাই সাধারণ মানুষকে জিম্মি করলে মানুষ বাঁচবে কি করে?’ এমন প্রশ্ন রেখে ছেলেটি তার কথা শেষ করে।

শিক্ষার্থীদের আড্ডায় ওই শিক্ষার্থীর কথা শেষ হলে তাদের কাছে টং দোকানের নামকরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে আড্ডায় থাকা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদীন বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাসে টং দোকানের নামকরণের পিছনে একটা ঘটনা আছে। ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে এক শিক্ষিকা মন্তব্য করে বলেছিলেন আমরা কি চাষাভুষা যে আমাদের নিয়ে যা তা বলবে। উনি কেন বলেছেন জানি না। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন, তাহলে কি চাষাভুষাদের নিয়ে যা তা বলা যায়?’

পাশে থাকা শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চাষাভুষা আমাদের পূর্বপুরুষ। আমরা এখন তাদের নিচু মনে করলে আমাদের পূর্বপুরুষেরাও তাহলে নিচু ছিলো।’ তিনি আরও বলেন, ‘চাষাভুষা পেশা নিচু কিছু নয়। আজকে সকালে যে খাবারটা খেয়ে এখানে এসেছি সেই অন্নের জোগানদাতা আমাদের চাষাভুষারা।’

গত ১৯ জানুয়ারি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করেছে এমন অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ জানান কিছু শিক্ষক। এ সময় এক নারী শিক্ষক তার মন্তব্যে চাষাভুষা শব্দ ব্যবহার করে বলেন, ‘আমরা চাষাভুষা নই যে আমাদের যা খুশি তাই বলবে’। এই মন্তব্যে চাষাভুষা মানুষদের অসম্মান করা হয়েছে বলে দাবি করে শিক্ষার্থীরা।