রোববার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯

জালিয়াতি করে শিক্ষক নিয়োগ : স্থায়ী বরখাস্ত হলেন প্রধান শিক্ষক

যশোর সদর উপজেলার রুদ্রপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি সরকারকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালকের স্বাক্ষর জাল করে দুই শিক্ষককে নিয়োগ, দুদকের জাল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে উচ্চ আদালতে রিট ও নানা দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করা মামলা এবং পিবিআইয়ের তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় গত ১৬ জুন তাকে স্থায়ী বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় যশোর শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও আরবিট্রেশন কমিটি।

গতকাল সোমবার যশোর বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি সরকারের বিরুদ্ধে যেন অভিযোগের শেষ নেই। প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং একজন শিক্ষক প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে দুইজন শিক্ষককে নিয়োগ দেন। ওই সময় তার সহকারী হিসেবে স্কুলের তৎকালীন সভাপতি ইব্রাহিমের নামও উঠে আসে । এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে মৃণাল কান্তির নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে সাধারণ শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা। এ ঘটনায় স্কুলের সামনে মানববন্ধন হয়। স্কুল কমিটি তাকে শোকজ করে। মৃণাল কান্তি ওই সময় শোকজের মনগড়া জবাব দেন। একপর্যায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই বছরের ১০ জানুয়ারি স্কুল কমিটির দাতা সদস্য রুদ্রপুর গ্রামের লুৎফর রহমান বিশ্বাস বাদি হয়ে আদালতে মামলা করেন। আদালতের আদেশে পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর ফসিয়ার রহমান মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা উঠে আসে। এক বছর এক মাস পর আদালতে হাজির হলে মৃণাল কান্তি সরকারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

তারা আরও জানান, প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তির বিরুদ্ধে স্কুলের চার লাখ ৯৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরও একটি মামলা আদালতে করা হয়। পিবিআই তদন্ত করে ওই মামলারও সত্যতা পায়। এরমাঝে মৃণাল কান্তি দুদকের দুইটি ভুয়া চিঠি উচ্চ আদালতে দেখিয়ে রিট মামলা করে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য উচ্চআদালত থেকে নির্দেশনা আনেন। পরে সেচিঠিও জাল বলে প্রমাণ পায়। এক পর্যায় এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষা বোর্ডের ৭৯ তম আপিল এন্ড আরবিট্রেশন কমিটির সভায় তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়।