রোববার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯

অধ্যক্ষের কাছ থেকে ঘুষের টাকা ফেরত চান চাকরিপ্রার্থী

লক্ষ্মীপুরে একটি মাদরাসার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরীর আশায় ওই মাদরাসার অধ্যক্ষকে তিন লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছে এক চাকরীপ্রার্থী । কিন্তু চাকরী না পাওয়ায় এখন সেই টাকা ফেরত চাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থী। তবে টাকা ফেরত না দিয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ উল্টো গালমন্দ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভুগী চাকরী প্রার্থী প্রতিকার চেয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা ও মাদরাসা সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ভুক্তভুগী ওই চাকরী প্রার্থীর নাম মো. ইকবাল হোসেন। তিনি সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের গন্ধর্ব্যপুর গ্রামের মো. হেদায়েত হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, সম্প্রতি গন্ধর্ব্যপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার জন্য অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এতে ৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন। গত ১৮ জুন মাদরাসাতে তাদের মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে রিয়াজ হোসেন নামে এক ব্যাক্তিতে ওই পদে মনোনীত করা হয়।

তবে ওই পদে প্রার্থী ইকবাল হোসেন অভিযোগ তুলেছেন, মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুক তাকে চাকরি দিবে বলে তার কাছ থেকে দুই দফায় ৩ লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু অধ্যক্ষ তাকে চাকরি দিতে পারেন নি। ফলে তিনি অধ্যক্ষের কাছে ঘুষের টাকা ফেরত চেয়েছেন। এতে উত্তেজিত হয়ে উঠেন অধ্যক্ষ। টাকা না দিয়ে উল্টো তাকে গালমন্দ করেন।

ইকবাল হোসেনের পিতা হেদায়েত হোসেন বলেন, গত এক বছর থেকে ওমর ফারুক আমার ছেলেকে চাকরী দেয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য তিনি ৩ লাখ টাকা দাবি করেছেন। আমি স্থানীয় শামছুদ্দিন ও মুনসুর এর কাছ থেকে টাকাগুলো সুদের ওপর ধার করে ওমর ফারুকের হাতে তুলে দিই। কিন্তু তিনি আমার ছেলেকে চাকরি দিতে পারেন নি, টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি, তারা এখন আমাকে টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। কিন্তু অধ্যক্ষ ওমর ফারুক টাকা ফেরত না দেয়ায় পাওনাদারদের টাকা ফেরত দিতে পারছি না।

এ বিষয়ে জানতে সরেজমিনে ওই মাদরাসায় গেলে অধ্যক্ষ ওমর ফারুককে পাওয়া যায়নি। তার ব্যাক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

মাদরাসার সভাপতি অ্যাডভোকেট রহমত উল্যা বিপ্লব বলেন, চাকরি দেয়ার জন্য অধ্যক্ষ কারো কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন কিনা- সেটা আমার জানা নেই। তবে স্বচ্ছভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে একজনকে নিয়োগের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।