মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স এবং অন্যরকম প্রজন্মের বেড়ে ওঠা

অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স বাংলাদেশের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র সায়েন্স কিট। প্রথম সবকিছুর মাঝেই থাকে অবারিত আবেগ আর অফুরান ভালোবাসা। বিজ্ঞানবাক্সের সাথেও মিশে আছে এমন এক আবেগের গল্প। বিজ্ঞানবাক্সের রূপকার অন্যরকম গ্রুপের “অন্যরকম ইলেকট্রনিক্স” (যা ওরেলকো নামেও পরিচিত)। অন্যরকম গ্রুপ বরাবরই প্রথাবিরোধী এবং সৃষ্টিশীল কাজে বিশ্বাসী। অন্যরকম গ্রুপ বরাবরই চেয়েছে অন্যরকম কিছু করতে। এমন কিছু, যা বাংলাদেশকে বদলে দেবে, তৈরি করবে এক দল স্বপ্নময় মানুষ, যারা দেশে বিরাজমান নানা সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসবে উদ্ভাবনী ভাবনার অপার শক্তি নিয়ে। কর্ম, গবেষণা এবং উদ্যোগের নীতিতে বলীয়ান হয়ে পূর্ণতা পায় বাংলাদেশে শিশুদের জন্যে তৈরি প্রথম সায়েন্স কিট “অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স”। প্রথম বিজ্ঞানবাক্সটি বের হয় ২০১৪ সালে। আলো নিয়ে নানারকম এক্সপেরিমেন্ট ছিলো এতে। এর কেতাবী নাম ছিলো “আলোর ঝলক”। তবে সেই সময়ে এটি ‘বিজ্ঞানবাক্স’ নয় ‘জ্ঞানবাক্স’ হিসেবে পরিচিত ছিলো। এরপর একে একে বের হয়েছে চুম্বকের চমক, তড়িৎ তাণ্ডব, রসায়ন রহস্য, অদ্ভুত মাপজোখ, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞানবাক্স এবং শব্দকল্প। এছাড়াও রয়েছে স্মার্টকিট ট্যানগ্রাম, ক্যাপ্টেন কিউরিয়াস, ফোকাস চ্যালেঞ্জ এবং জায়ান্ট পিক্সেল। প্রতিটি বিজ্ঞানবাক্সে ২০ থেকে ৫০টি এক্সপেরিমেন্ট করার উপকরণ রয়েছে। সাথে ম্যানুয়াল বই থাকায় বাচ্চারা খুব সহজেই নিজে নিজেই এক্সপেরিমেন্টগুলি করতে পারে।

অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্সের উদ্যোক্তা, অন্যরকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সোহাগ এটাকে শুধুমাত্র একটি বিজ্ঞানের পরীক্ষণভিত্তিক বাক্স হিসেবে দেখেন না। তার কাছে এটি একটি স্বপ্ন তৈরির উপকরণ। তার ভাষ্যমতে-
“ আমরা যখন প্রথাগত ভাবে বই থেকে বিজ্ঞানের কোন থিওরি পড়ি এবং পরীক্ষাতে লিখি, তখন মজা তো দূরের কথা, এটা আমাদের কাছে তখন একটা কমপ্লিট বিরক্তিকর জিনিস!

কিন্তু এটাই যখন ওরা হাতে কলমে দেখছে, তখন যে আনন্দটা, সেই আনন্দের কারনে
প্রথমত, তার মধ্যে একটা স্বপ্ন তৈরি হবে — “আমি একদিন বিজ্ঞানী হব! আমি একটা জিনিস নিজে বানাবো ! “
আমরা মনে করি একটা বিজ্ঞানের উপকরন বানানোর চাইতে অনেক বড় হচ্ছে তার মধ্যে স্বপ্ন তৈরি করে দেয়া !

এর মাধ্যমে সে পৃথিবীর অনেক রকম সমস্যার সমাধান করবে
দ্বিতীয়ত হচ্ছে যে থিংকিং এর ডেপথে যাওয়া —- কারণ, আমি একটা জিনিস নিয়ে যত গভীর ভাবে ভাববো, গভীর ভাবে চিন্তা করবো, তত আমার ব্রেইন এক্টিভেটেড হবে ।

আমরা যা কিছু পড়ি , যেমন নিউটনের গতি সূত্র হয়তো আমাদের বাস্তবে কাজে না ও লাগতে পারে। একটা কঠিন অংক সমাধান করাটা হয়তো আমাদের ডিরেক্টলি কাজে না ও লাগতে পারে।

কিন্তু এই জিনিসগুলাই যখন আমরা গভীর ভাবে ভাববো, তখন যে আমার ব্রেইন এক্টিভেটেড হবে, ব্রেইন ম্যাচিউরড হবে, ঐটা আমার এসেট হিসেবে থাকবে ।যেটা সারাজীবন আমাকে অসাধারণ কাজ করতে সাহায্য করবে । তাই এইটাও আমাদের একটা উদ্দেশ্যের জায়গা –

যারা আমাদের দেশের আমাদের নতুন প্রজন্ম , ওরা যখন বিজ্ঞানবাক্সের মধ্যে দিয়ে লার্নিং টা কে উপভোগ করবে,
তখন যেন আগের জেনারশনের চাইতেও ব্রেইনটাকে আরো বেশি ইউজ করতে পারে পৃথিবীর কল্যানে !”

অন্যরকম বিজ্ঞানবাক্স কিনতে পাওয়া যাবে বিজ্ঞানবাক্সের ওয়েবসাইট http://www.bigganbaksho.com থেকে। এছাড়াও রকমারি ডট কম, বিভিন্ন সুপারশপ এবং লাইব্রেরিতেও পাওয়া যাবে।