রোববার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯

রজার মুরকে বন্ড হিসেবে কোথায় রাখবেন?

দুনিয়া কাঁপানো বন্ড সিরিজের অন্যতম প্রধান যোদ্ধা ছিলেন রজার। টানা ১২ বছর ধরে বিশ্বখ্যাত এ সিরিজের নায়ক ছিলেন তিনি একা। ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত সাতটি জেমস বন্ড চরিত্রে অভিনয় করেছেন রজার মুর।

[২০১৭ সালের আজকের দিনে (২৩ মে) আমাদের ছেড়ে চলে যান সিনেমা জগতের নক্ষত্র রজার মুর। এই জেমস বন্ড তারকার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার স্মৃতিচারণ করেছেন লেখক-গবেষক কৌশিক মজুমদার]

সবচেয়ে বেশি বন্ড সাজা এই ভদ্রলোককে একদিন সাংবাদিক জিজ্ঞাসা করেছিলেন বন্ড হিসেবে নিজেকে কোথায় রাখবেন?

'I'm the fourth best James Bond,' গম্ভীরভাবে বলেছিলেন তিনি। তখনও অবশ্য বন্ড মাত্র চারজনই সেজেছেন।

এমনই ছিলেন রজার মুর। হাসিখুশি, সরল, ছেলেমানুষ। নিজেকেই নিজে ওভারপেইড, ওভাররেটেড বলতেন। বিশ্বাসও করতেন হয়তো।

তার অভিনয়ের প্রশংসা হলেই বলে উঠতেন,'My acting range has always been something between the two extremes of 'raises left eyebrow' and 'raises right eyebrow.'

কী বলবেন এই মানুষটাকে? যিনি নিজেকে যতই লুকিয়ে রাখুন, তার কাজ কথা বলে গেছে চিরকাল।

জেমস বন্ড সিরিজের ৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। দুনিয়া কাঁপানো এ সিরিজটির অন্যতম প্রধান যোদ্ধা ছিলেন রজার। টানা ১২ বছর ধরে বিশ্বখ্যাত এ সিরিজের নায়ক ছিলেন তিনি একা। ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত সাতটি জেমস বন্ড চরিত্রে অভিনয় করেছেন রজার মুর। এগুলোর মধ্যে আছে 'লাইভ অ্যান্ড লেট ডাই' ও 'দ্য স্পাই হু লাভড মি' র মত ছবি।

ক'জন জানি যে শার্লক হোমসের চরিত্রেও দেখা গেছিল তাকে?

৫৮ বছর বয়সে তিনি শেষবারের মতো জেমস বন্ড হিসেবে হাজির হয়েছিলেন। সবচেয়ে বয়স্ক বন্ড।

বন্ড চরিত্রে তার অভিনয়ের অভিজ্ঞতাসহ আরও নানা বিষয় নিয়ে 'বন্ড অন বন্ড' নামে একটি বই লিখেছেন। তার লেখা আত্মজৈবনিক গ্রন্থ 'মাই ওয়ার্ল্ড ইজ মাই বন্ড'।

দারুণ মজার মানুষ। নিজেকে নিয়েও মজা করতে ছাড়তেন না। জমাতেন তাকে নিয়ে বিভিন্ন কাগজের কার্টুন। বুড়ো হয়েছেন, তাও বন্ড সেজে চলেছেন দেখে ঠাট্টা করত সবাই। নিজের বইতে যত্ন করে সেই ঠাট্টাকেও জায়গা দিয়েছিলেন মানুষটা।

জানতেন মানুষ চলে যাবে। থেকে যাবে কাজটুকু। বারবার বলতেন, 'Some are blessed with musical ability, others with good looks. Myself, I was blessed with modesty.'

এত ভদ্র অভিনেতা খুব কম দেখা যায়। সবাই বলে আজও। সাংবাদিক চেয়ার পাচ্ছে না বলে নিজের চেয়ার ছেড়ে দিয়েছেন কতবার। ক্রু মেম্বারদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা মারতেন শুটিং-এ। ক্যামেরার সেই সুপার হিরো থেকে মাটির মানুষ হতে জাস্ট একটা 'কাট' লাগত।

শুধু চাইতেন আর কটা দিন বেঁচে থাকতে। 'মারা যাওয়া খুব বোরিং, মরতে চাইনা একদম' কতবার বলেছেন ইয়ত্তা নেই।

'ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে সাহসীর মতো বিদায় নিয়েছেন রজার। সিংহহৃদয়ের অধিকারী আমাদের বাবা, স্যার রজার মুর আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।' ২০১৭ সালে আজকের দিনেই টুইটারে পোস্ট করেছিলেন রজার মুরের ছেলে।

সেই প্রথম কোনো বন্ড মারা গেলেন…