রোববার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯

হল মালিকরা চান হিন্দি সিনেমা

করোনার দিনগুলোতে হল ছিলো বন্ধ। ফাঁকে ফাঁকে চালু হলেও দর্শক সাড়া আশাব্যঞ্জক ছিল না। তবে সেই চিত্রটা বদলে দিয়েছেন শাকিব খান ও সিয়ামরা। গত রোজার ঈদে ‘গলুই’ ও ‘শান’ দিয়ে হলে ফিরেছিল দর্শক। আশায় বুক বেঁধেছিলেন হল মালিকারা।

সিনেমার মানুষেরাও ভাবছিলেন ইন্ডাস্ট্রির মন্দার দিন হয়তো কাটতে চলছে। তবে গত ২০ মে মুক্তি পাওয়া তারকাবহুল ‘পাপ-পুণ্য’ সিনেমা সেই আশায় গুড়েবালি হয়ে ধরা দিয়েছে।

বক্স অফিসে ‘পাপ-পুণ্য’ ছবির চেয়েও করুণ চিত্র প্রায় ৯০ লাখ টাকায় নির্মিত ‘আগামীকাল’ সিনেমার। নাটক নির্মাণে স্বনামধন্য অঞ্জন আইচ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে এসে প্রথমেই সুপারফ্লপ তকমার স্বাদ পেলেন।

গত ১০ জুন মুক্তি পাওয়া ‘বিক্ষোভ’ সিনেমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন অনেকেই। ধারণা ছিল তারকাবহুল সিনেমাটি হলে দর্শক টানবে। কলকাতার শ্রাবন্তী ছিলেন সেই প্রত্যাশার স্বপক্ষের বাজি। তবে সেখানেও ব্যর্থতা।

গেল সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া ‘অমানুষ’ ও ‘তালাশ’ সিনেমাও হলে দর্শক টানতে পারছে না।

তবে দিনশেষে লোকসান তো গুনতে হচ্ছে হল মালিকদেরই। যার ফলে তাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকেছে বলে দাবি করছেন তারা। ফার্মগেটের আনন্দ হলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দর্শকহীন ফাঁকা পরিবেশ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মী জানান, ‘ঈদে কিছু দর্শক পেয়েছিলাম। তারপর থেকেই একেবারে ফাঁকা। দর্শক যে আসলে কি ছবি দেখতে চায় সেটাই বুঝতে পারি না। মালিক তো বিরক্ত। এভাবে লস দিয়ে তো আর ব্যবসা করা যায় না। যারা সিনেমা বানায় তারা তো বিজ্ঞাপন, টিভি-ফেসবুক দিয়া টাকা পায়া যায়। আমরা তো ক্ষতিগ্রস্ত হই।’

একই চিত্র প্রায় সব হলেই। তাই হল ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হলে হিন্দি সিনেমাসহ বিদেশে সিনেমা মুক্তির দাবি হল মালিকদের। এই দাবি অবশ্য তাদের দীর্ঘদিনের। কয়েকবার আন্দোলনও করেছেন তারা।

‘সিনেমা হল বাঁচাতে হলে অবশ্যই হিন্দি সিনেমা আমদানি করতে হবে। তা না হলে আমাদের সিনেমা হল বন্ধ করে দিতে হবে। দর্শকের অনেক আগ্রহ হিন্দি সিনেমার প্রতি বা ভারতের সিনেমার প্রতি। সেগুলো আমদানি করে চালাতে পারলে হয়তো দর্শক হলে পাওয়া যেত। একবার হলে ফিরলে সেটা অভ্যাস হবে। তখন দেশের সিনেমাগুলোও দর্শক পাবে বলে আমার বিশ্বাস’- যোগ করেন দেশের ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল মধুমিতার এমডি।