মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

শওকত ওসমানের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

শওকত ওসমান বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের একজন স্বনামখ্যাত লেখক ও কথাসাহিত্যিক। জন্মসূত্রে তাঁর নাম শেখ আজিজুর রহমান। তিনি মুক্তচিন্তার বুদ্ধিজীবী হিসাবে সমধিক পরিচিত ছিলেন। আজ তার ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী।

‘ক্রীতদাসের হাসি’ তাঁর প্রসিদ্ধ উপন্যাস। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা একাডেমী পুরস্কার, ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের প্রেসিডেন্ট পুরস্কার, ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে একুশে পদক এবং ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার পান।

১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দের ২ জানুয়ারি পশ্চিম বঙ্গের হুগলী জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পিতা শেখ মোহাম্মদ এহিয়া, মাতা গুলজান বেগম। পড়াশোনা করেছেন মক্তব, মাদ্রাসা, কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি কলকাতার আলিয়া মাদ্রাসায় পড়ালেখা শুরু করলেও পরবর্তীকালে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ ও অর্থনীতি বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। কিন্তু একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। আইএ পাস করার পর তিনি কিছুদিন কলকাতা করপোরেশন এবং বাংলা সরকারের তথ্য বিভাগে চাকরি করেন। এমএ পাস করার পর ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলকাতার গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজে প্রভাষক পদে নিযুক্ত হন। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে দেশ বিভাগের পর তিনি চলে আসেন পূর্ববঙ্গে।

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি চট্টগ্রাম কলেজ অব কমার্সে (বর্তমানে সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম) যোগ দেন এবং ১৯৫৮ সাল থেকে ঢাকা কলেজে অধ্যাপনা করে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে স্বেচ্ছা অবসরে যান।চাকরি জীবনের প্রথমদিকে কিছুকাল তিনি ‘কৃষক’ পত্রিকায় সাংবাদিকতাও করেন।

গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস, ছোট গল্প, নাটক, কবিতা, আত্মজীবনী, স্মৃতিখণ্ড, শিশুতোষ ইত্যাদি বিষয়ে লিখেছেন অনেক। তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক। হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী ওসমানের কবিতা বুলবুল পত্রিকায় প্রকাশের মধ্য দিয়ে তাঁকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসেন।

উপন্যাস, নাটক, শিশুতোষ গ্রন্থ, রম্যরচনা, স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ, অনূদিত গ্রন্থ মিলিয়ে তার গ্রন্থের সংখ্যা ৬০-এর বেশি।
শওকত ওসমান ১৯৯৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।