বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯

পদ্মা সেতু হয়েছে কি না দেখে যান : খালেদাকে প্রধানমন্ত্রী

পদ্মার ওপর সেতু হয়েছে কি না, তা দেখে যেতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে সেতুর ফলক উন্মোচন শেষে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ীতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, মাওয়া প্রান্তে সুধী সমাবেশ শেষে শনিবার দুপুর ১২টার একটু আগে পদ্মা সেতুর এক প্রান্তের ফলক উন্মোচন করেন সরকারপ্রধান। পরে গাড়িবহরে করে সেতু পাড়ি দিয়ে জাজিরা প্রান্তে যান তিনি। সেখানেও আরেকটি ফলক উন্মোচন করেন।
দ্বিতীয় ফলক উন্মোচন শেষে মাদারীপুরে গিয়ে জনসভায় দেয়া বক্তব্যে সরকারপ্রধান পদ্মা সেতুকেন্দ্রিক বিভিন্ন বিষয় সামনে আনেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই পদ্মা সেতু উদ্বোধনের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম। খালেদা জিয়া এসে তা বন্ধ করে দিয়েছিল। ২০০৯ এ আমরা ক্ষমতায় এসে আবার কাজ শুরু করেছিলাম।

‘তখন তারা কী বলেছিল? বলেছিল আওয়ামী লীগ কখনও পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারবে না। খালেদা জিয়াকে জিজ্ঞাসা করি, আসুন; দেখে যান পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে কি না।’

সরকারপ্রধানের বক্তব্যে উঠে আসে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়টিও। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের অনেক জ্ঞানী-গুণী লোক বলেছিল নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব নয়। আজ নিজেদের টাকায় কীভাবে পদ্মা সেতু করতে পারলাম? আপনারা, এই বাংলাদেশের জনগণ, আপনারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন; পাশে দাঁড়িয়েছেন। জনগণের শক্তিই বড় শক্তি। এটা আমি বিশ্বাস করি।’

বক্তব্যে গত কয়েক দিনের মতো আবারও শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রসঙ্গ টানেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে সরে যেতে হলো, তখন বিশ্বব্যাংক ও আমেরিকার সঙ্গে তদবির করে পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দিয়েছিল।

সেতু নির্মাণে দৃঢ় সংকল্পের কথা জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম, টাকা বন্ধ হয়েছে কী হয়েছে? আমরা নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করব। অনেকেই অনেকভাবে চেষ্টা করেছে; বলেছে এই সেতু আমরা করতেই পারব না। আমার একমাত্র শক্তি তো আপনারা। আমার একমাত্র শক্তি বাংলাদেশের জনগণ। আপনাদের সহযোগিতায় আজ আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পরেছি।

‘সেতু নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, পরামর্শক, ঠিকাদার, প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, শ্রমিক, নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। ধন্যবাদ জানাই পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তের অধিবাসীদের যাদের জমিজমা ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের এই ত্যাগ ও সহযোগিতা জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে।’