বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯

বর্ণিল উৎসবে দুয়ার খুললো স্বপ্নের পদ্মা সেতু

মাওয়ায় পদ্মার তীরে উন্মোচিত হলো ফলক, বাতাসে উড়ল রঙিন আবির, বর্ণিল উৎসবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে এ ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুই দশক আগে তিনিই দক্ষিণ জনপদের ২১ জেলার মানুষের এ স্বপ্নের সেতুর ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।

শনিবার সকালে হেলিকপ্টারে করে মাওয়ায় পদ্মা সেতু সার্ভিস এরিয়ায় সুধী সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেখানে জাতির উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের এই ঐতিহাসিক দিনে যে যার অবস্থান থেকে দেশ এবং দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার শপথ নিই, এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব।

সুধী সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকেট, স্মারক ব্যাংক নোট, স্যুভেনির শিট, সিলমোহর ও উদ্বোধন খামের মোড়ক উন্মোচন করেন।

‘আছে শুধু ভালোবাসা, দিয়ে গেলাম তাই’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিঃস্ব আমি রিক্ত আমি দেবার কিছু নেই, আছে শুধু ভালোবাসা দিয়ে গেলাম তাই।

মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাবা-মা, ভাই হারিয়ে পেয়েছি আপনাদের। আপনাদের মাঝেই আমি ফিরে পেয়েছি আমার বাবার স্নেহ, মায়ের স্নেহ ও ভাইয়ের স্নেহ। আপনাদের পাশেই আমি আছি, আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আপনাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমি যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত, এই ওয়াদা আমি দিয়ে গেলাম।

প্রধানমন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে জাতীয় মসজিদে দোয়া

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ দোয়ার আয়োজন করা হয়। বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. এহসানুল হক। দোয়া ও মোনাজাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার, উপ-পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এর আগে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে ও বন্যাদুর্গতদের জন্য গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এছাড়া এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সব বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ৫০টি ইসলামিক মিশন, ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমিতেও বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘মানুষের আর্থসামাজিক মুক্তিতে অবদান রাখবে পদ্মা সেতু’

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে পদ্মা সেতু অবশ্যই একটা অনেক বড় অবদান রাখবে। দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক মুক্তিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রের পদ্মা সেতু অবদান রাখবে।

‘বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আজ সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন’

দেশি-বিদেশি সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে নিজস্ব অর্থায়নে অবশেষে স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হচ্ছে আজ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজ বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

মাওয়া পয়েন্টে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ ফজলুল করিম বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে জাতির জনকের ইচ্ছা ছিল পদ্মা ও অন্যান্য নদীতে জন্য ব্রিজ করা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ষড়যন্ত্রকারীরা তা হতে দেয়নি। তবে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আজ সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এতোটা প্রকট ছিল যে স্বাধীনতার পর তিনি অনুভব করেছিলেন ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ পশ্চিম এবং উত্তরবঙ্গের সুন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের।

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধু ভাবতেন, যে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা যত সুন্দর, সেদেশের উন্নতিও বেশি হয়। আমরা সেই পথেই এগিয়ে যাচ্ছি।