বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯

পরমাণু অস্ত্রের হুমকি থেকে বিশ্বকে মুক্ত রাখুন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন পরমাণু অস্ত্রের হুমকি থেকে বিশ্বকে মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘ সদর দফতরের সাধারণ পরিষদ হলে অনুষ্ঠিত দশম এনপিটি পর্যালোচনা সম্মেলনে মঙ্গলবার (২ আগস্ট) তিনি এ আহবান জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করি পারমানবিক বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) এর দশম পর্যালোচনা সম্মেলন থেকে এমন সিদ্ধান্ত বের হয়ে আসবে যা বিশ্বকে পারমানবিক অস্ত্রের হুমকি থেকে মুক্ত করতে চুক্তিটির সার্বজনীনতা এবং বাস্তবায়নকে আরও সহজতর করবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া ঐতিহাসিক প্রথম ভাষণে বিশ্বকে পারমানবিক যুদ্ধের কবল থেকে মুক্তির যে আহ্বান জানিয়েছিলেন উল্লেখ করেন ড. মোমেন।

তিনি বলেন, ‘এই আহ্বানকে ভিত্তি করেই পারমানবিক অস্ত্রের সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পূর্ণ এবং অটল প্রতিশ্রুতির ভিত্তি তৈরি হয়েছে যা বাংলাদেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও বটে।’

মানবতার নিরাপত্তাকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে কয়েকটি রাষ্ট্র স্থায়ীভাবে যে পারমাণবিক অস্ত্র মজুদ রেখেছে তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ড. মোমেন এনপিটি এর তিনটি স্তম্ভ-পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, এর বিস্তার রোধ এবং পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকর বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি চুক্তির ধারা-৪ এর বৈষম্যহীন বাস্তবায়নের উপর জোর দেন, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা এবং কৃষিসহ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে পারমাণবিক শক্তির বিকাশ, গবেষণা, উৎপাদন এবং ব্যবহার করার জন্য সকল রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারমাণবিক প্রযুক্তির গবেষণায় বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মানবজাতির স্বার্থে এর শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের সম্ভাবনা আহ্বান জানান।

এনপিটি কনফারেন্সে যোগদান উপলক্ষে জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
এদের মধ্যে রয়েছেন স্লোভেনিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিজ্ তানজা ফাজন, হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজিজারতো, আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী সান্তিয়াগোক্যাফিরো। এ সব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।