বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯

নবাব সিরাজউদ্দৌলা

বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব মীর্জা মুহম্মদ সিরাজউদ্দৌলার মৃত্যুবার্ষিকী আজ। পলাশির যুদ্ধে পরাজয় অতঃপর গ্রেপ্তারের পর ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ২ জুলাই মীর জাফরের পুত্র মীর সাদিক আলী খান মীরনের নির্দেশে মোহাম্মদী বেগ কারাগারেই সিরাজউদ্দৌলাকে নির্মমভাবে হত্যা করেন।

এর আগে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় ২৩ জুন সিরাজউদ্দৌলা লুটেরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পলাশির প্রান্তরে যুদ্ধে পরাজিত হন। পশ্চিমবঙ্গের পলাশীর প্রান্তরে আম্রকাননে নবাবের সেনাপতি মীর জাফর আলী খান, রাজবল্লভ, শওকত জঙদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাবের বাহিনীর পরাজয় ঘটে। এই পরাজয়ে মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়। বাংলাসহ ভারত উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর নামে বর্বর লুটেরা ইংরেজ শক্তির অভ্যূদয় ঘটে।

মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন। প্রথম দিকে কামানের গোলার আঘাতে সেনা নায়ক মীর মদন শহীদ হন।

ইংরেজের অতর্কিত আক্রমণের পাল্টা জবাব দেয়ার নির্দেশ দেয়নি চক্রান্তকারী মীর জাফর। এই যুদ্ধে ইংরেজের ২২ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়। আর নবাবের পক্ষে যুদ্ধরত ৫শ’ সেনা প্রাণ হারান। এই চক্রান্তের যুদ্ধে জয়ের পর ক্লাইভ কলিকাতার দক্ষিণে বার্ষিক ৩০ হাজার পাউন্ড আয়ের একটি জমিদারি ও জায়গীর লাভ করেন।

বাংলার ইতিহাসে সিরাজউদ্দ্যেলা এক প্রতিমূর্তি। পলাশীর যুদ্ধে তার পরাজয় ও মৃত্যুর পরই ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত ১৯০ বছরের ইংরেজ শাসনের সূচনা হয়। সিরাজউদ্দৌলা তার নানা নবাব আলীবর্দী খানের কাছ থেকে ২৩ বছর বয়সে ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার নবাবের ক্ষমতা অর্জন করেন। তার সেনাপতি মীরজাফর, রায়দুর্লভ, বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ২৩ জুন ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত হন।

তবে পলাশীর যুদ্ধে যারা নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে ইংরেজদের জিতিয়ে দেন পরবর্তীতে তাদের সকলের মৃত্যু হয়েছে অস্বাভাবিক এবং করুণভাবে।