রোববার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯

আরও ছড়াচ্ছে মাঙ্কিপক্স, কোভিডের পর নতুন উদ্বেগ

ছবি : রয়টার্স

ছবি : রয়টার্স

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে নতুন আতঙ্ক মাংকিপক্স। এরইমধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে এই রোগ ছড়িয়েছে। আফ্রিকা থেকে ছড়ানো এই পক্স এখন কোভিডের পর বিশ্বে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সনাক্ত হয় এই রোগ। ইউরোপের পর্তুগাল, বৃটেন এবং স্পেনে প্রায় দুই ডজন মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশগুলোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখছে এবং রোগটি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

এক রিপোর্টে বৃটিশ গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, এই রোগ ছড়ায় মাংকিপক্স নামে এক ধরনের ভাইরাসের মাধ্যমে। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এটি অনেকটা জল বসন্তের ভাইরাসের মতো। তবে এর ক্ষতিকারক প্রভাব কম, এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সংক্রমণের হারও কম। পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার নিরক্ষীয় বনাঞ্চলে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি ।

মাংকিপক্স দু'ধরনের হয়ে থাকে - মধ্য আফ্রিকান এবং পশ্চিম আফ্রিকান। বৃটেনে আক্রান্ত হওয়াদের সম্প্রতি নাইজেরিয়া সফরের ইতিহাস রয়েছে। তাই তারা পশ্চিম আফ্রিকা ধরনের মাংকিপক্সে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আরও এক ব্যক্তি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন যিনি একজন স্বাস্থ্যকর্মী। তিনি রোগীদের কাছ থেকে এই ভাইরাস পেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, এই রোগের উপসর্গ হচ্ছে জ্বর, মাথাব্যথা, হাড়ের জয়েন্ট এবং মাংসপেশিতে ব্যথা এবং দেহে অবসাদ। জ্বর শুরু হওয়ার পর দেহে গুটি দেখা দেয়। এসব গুটি শুরুতে দেখা দেয় মুখে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে হাত এবং পায়ের পাতাসহ দেহের সব জায়গায়। এই গুটির জন্য রোগী দেহে খুব চুলকানি হয়। পরে গুটি থেকে ক্ষত দেখা দেয়। গুটি বসন্তের মতোই রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেও দেহে এসব ক্ষত চিহ্ন রয়ে যায়। রোগ দেখা দেয়ার ১৪ থেকে ২১ দিনের মধ্যে রোগী আরোগ্য হয়।

সংক্রমিত রোগীর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ থেকে এই ভাইরাস ছড়ায়। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে, ত্বকের ক্ষত থেকে এবং নাক, মুখ ও চোখের ভেতর দিয়ে এই ভাইরাস মানুষের দেহে প্রবেশ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বানর, ইঁদুর, কাঠবিড়ালি, এমনকি মাংকিপক্সে আক্রান্ত রোগীর ব্যবহৃত বিছানাপত্র থেকেও এই ভাইরাস অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের প্রভাব বেশ মৃদু। এর বৈশিষ্ট্য জল বসন্তের মতোই, এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাপক হারে ছড়িয়ে না পড়লে এই ভাইরাস নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই।