রোববার, ২৬ জুন ২০২২, ১২ আষাঢ় ১৪২৯

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ ঘোষণা করলো কানাডা

একবার ব্যবহারযোগ্য ক্ষতিকর প্লাস্টিকের উৎপাদন ও আমদানি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা সরকার। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার এ–সংক্রান্ত কিছু নতুন বিধি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর থেকে বিধিগুলো কার্যকর হবে। এ ছাড়া একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বিক্রি নিষিদ্ধ হবে আগামী বছরের ডিসেম্বর থেকে। আর রপ্তানি নিষিদ্ধ হবে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে। খবর আল জাজিরার।

গতকাল কানাডা সরকার প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রিসাইকেল করা কঠিন এমন প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি শপিং ব্যাগ, বাসনকোসন, খাবার সরবরাহে ব্যবহৃত পণ্য উৎপাদন ও আমদানির ক্ষেত্রে এ বিধি কার্যকর হবে। কিছু ব্যতিক্রম বাদে রিং ক্যারিয়ার, স্টির স্টিক এবং স্ট্র এর উৎপাদন ও আমদানিতেও থাকবে নিষেধাজ্ঞা।

গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডার পরিবেশমন্ত্রী স্টিভেন গিলবল্ট বলেন, ‘প্লাস্টিক দূষণ কমানোর ক্ষেত্রে আমাদের সরকারের অবস্থান অটল। সে কারণে আজ আমরা ঘোষণা করছি যে একবার ব্যবহারযোগ্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার। প্লাস্টিক দূষণ রোধ এবং আমাদের জনগণ, ভূমি ও সমুদ্রকে পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে এটি এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।’

২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর থেকে এ ধরনের পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ কার্যকর হবে। এ সময়ের মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এবং মজুত থাকা পণ্যগুলোর সরবরাহ শেষ করার সুযোগ দেওয়া হবে।

২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের শেষ নাগাদ ছয় ধরনের প্লাস্টিকের রপ্তানিও নিষিদ্ধ করবে কানাডা সরকার।

কানাডার পরিবেশ সুরক্ষা আইনের আওতায় গত বছর প্লাস্টিককে বিষাক্ত পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এর মধ্য দিয়ে প্লাস্টিক ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের সুযোগ তৈরি হয়।

প্লাস্টিককে বিষাক্ত ঘোষণার বিরোধিতা করে ইতিমধ্যে প্লাস্টিক উৎপাদনকারীদের একটি সংগঠন কানাডার সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। চলতি বছরের শেষের দিকে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে প্রতিবছর দেড় হাজার কোটি প্লাস্টিকের শপিং ব্যাগ ব্যবহার হয়। আর প্রতিদিন ব্যবহার হয় ১ কোটি ৬০ লাখ স্ট্র।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৬০ সাল নাগাদ বিশ্বে প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়ে তিন গুণ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই বছরে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্লাস্টিকের বার্ষিক উৎপাদন ১০০ কোটি ২০ লাখ টন দাঁড়াতে পারে। প্রতিবছর এসব প্লাস্টিক উৎপাদন করতে গিয়ে যে আবর্জনা তৈরি হবে, তার পরিমাণ হবে ১০০ কোটি টনের বেশি।