
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়
শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে রাজশাহী বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে একজনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।
শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন- রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শিবলী নোমানী ইসলাম নিলয়, আইন ও মানবাধিকার বিভাগের এম ফারারুজ্জামান বাঁধন, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের নূর-ই-আলম সিদ্দিকী এবং একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রিজওয়ান তানভীর মীম। এছাড়া একই বিভাগের মো. সোয়াইব হোসেন ও মুরশিদা মেহেরিন হাসিকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুরে এক সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
শাস্তি পাওয়া চার শিক্ষার্থীর মধ্যে মো. শিবলী নোমানী ইসলাম নিলয়কে আজীবনের জন্য বহিষ্কার, এম ফারারুজ্জামান বাঁধনকে দুই সেমিস্টারের জন্য, নূর-ই-আলম সিদ্দিকীকে এক সেমিস্টারের জন্য এবং রিজওয়ান তানভীর মীমের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ হওয়ায় তার সার্টিফিকেট ছয় মাসের জন্য অকার্যকর রাখা হয়।
সিন্ডিকেট সভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ নভেম্বর ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের একটি অনুষ্ঠানে মো. শিবলী নোমানী ইসলাম নিলয় অংশগ্রহণ করেন। এই সময় অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়ে অহেতুক সম্পৃক্ত হয়ে ওই বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে হুমকি-ধামকি এবং চড়-থাপ্পড় দেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
তার প্রেক্ষিতে ওই বছরের ১ ডিসেম্বর অনুসারীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ ওই শিক্ষার্থীকে আক্রমণ করে মারাত্মক জখম করেন। এতে ওই শিক্ষার্থীর চোয়ালের হাড় ভেঙে যায় এবং মাথায় ও গায়ে বিভিন্ন জায়গায় ফেটে রক্তাক্ত হয়ে যায়। আক্রান্ত শিক্ষার্থী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গেলেও তাকে সেখানে ভর্তি নিতে বাধা দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে ওই শিক্ষার্থীর বাবাকে জিম্মি করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ওই শিক্ষার্থী পরে নগরের চন্দ্রিমা থানায় গেলে, তার মামলা নিতেও নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়। শেষপর্যন্ত আক্রান্ত শিক্ষার্থীর আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের অনুরোধে চন্দ্রিমা থানায় মামলা হয়। এ ঘটনায় সঙ্গে শাস্তি পাওয়া অপর শিক্ষার্থীরাও ছিলেন।
সভা সূত্রে আরো জানা যায়, মো. শিবলী নোমানী ইসলাম নিলয়ের বিরুদ্ধে একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে ফেসবুকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় মন্তব্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঘটনায় প্রক্টরকে ফেসবুকে হুমকিমূলক স্ট্যাটাস, চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াই সাধারণ শিক্ষার্থীদের উসকানি দিয়ে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবরুদ্ধ করে দাবি-দাওয়া চাওয়া, শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে রাজনৈতিক দলের ফরম নিতে বাধ্য করাসহ আরো বেশকিছু অভিযোগ আনা হয়েছে সিন্ডিকেটে। এসব কারণে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিন্ডিকেট সভার সভাপতি প্রফেসর ড. মো. খাদেমুল ইসলাম মোল্যা বলেন, এ সব ঘটনায় অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি হয়। পরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চন্দ্রিমা থানায় বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছে।