ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫ , ১৯ চৈত্র ১৪৩১ আর্কাইভস ই পেপার

bkash
bkash
udvash
udvash
uttoron
uttoron
Rocket
Rocket
bkash
bkash
udvash
udvash

সাবেক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মুখর গৌরনদীর শত বছরের স্কুল

শিক্ষা

আমাদের বার্তা, বরিশাল

প্রকাশিত: ১৯:০০, ২ এপ্রিল ২০২৫

আপডেট: ১৯:০০, ২ এপ্রিল ২০২৫

সর্বশেষ

সাবেক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মুখর গৌরনদীর শত বছরের স্কুল

বরিশালের গৌরনদীতে প্রায় শত বছরের পুরনো বিদ্যালয়ে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। সাবেক  ছাত্র-ছাত্রীদের প্রথম পুনর্মিলনীকে স্মরণীয় করে রাখতে বর্ণিল আয়োজনে সাজানো হয় পুরো বিদ্যালয় মাঠ। অনুষ্ঠানে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা।

ঈদের তৃতীয় দিন বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রাখা হয়েছে নানা আয়োজন। পুরনো স্মৃতির কথা মনে করে আনন্দে আত্মহারা শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষাজীবনের বাল্য বন্ধুদের দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে পেয়ে গল্প, হাসি-ঠাট্টা, নাচে গানে মেতে ওঠেন তারা। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে ফিরে যান সেই কৈশোর-তারুণ্যে বিদ্যালয় জীবনে। এতে অংশ নেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কেউ সচিব, ডিসি, কেউ এসপি বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আবার কেউ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার। রয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বপূর্ণ পদে। এ সময় স্মরণ করা হয় প্রয়াত ১২ জন ও অবসরপ্রাপ্ত আরো ৪ শিক্ষাগুরুকে। 

তাদের দেওয়া মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক। প্রিয় অঙ্গনে, প্রাণের বন্ধনে এই স্লোগানে অনুষ্ঠানে রাখা হয় কবিতা আবৃত্তি, দলীয় নৃত্য, সংগীত। পরিবেশন করা যাদুও। অনুষ্ঠানে অংশ নেন ঢাকা, মাদারীপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানের শিল্পীরা। সবাইকে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি একদিনের জন্য বাল্যজীবনে ফিরে যেতেই এই আয়োজন বলে জানান আয়োজকরা। 

এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভালো লাগার কথা জানান আগত অতিথিরা। 

সজল বাঘল-এর সঞ্চালনায় ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত মেদাকুল বিএমএস ইনস্টিটিউশনের প্রথম এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আকন কুদ্দুসুর রহমান। 

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী সিদ্দিকী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনসহ অনেকেই।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী মীর মুরাদ বলেন, দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের একসঙ্গে পেয়ে খুব আনন্দিত। পুরনো সেই দিনের কথা মনে পড়ে যায়। কতই না ভালো ছিল সেই শৈশব! আবারও শৈশবে ফিরে যেতে পারলে দিনগুলো ভালোই কাটতো।

আরেক শিক্ষার্থী আলী আহম্মদ বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, আড্ডা, সেই সঙ্গে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে উল্লাস, সবকিছুই মনে পড়ে, প্রাণের বিদ্যাপীঠে আবারও এসে। কাজের তাগিদে এক একজন বিভিন্ন স্থানে থাকায় এক মিলিত হওয়া কঠিন। যারা এই পুনর্মিলনীর দায়িত্ব নিয়েছেন তারা ধন্যবাদ জানাই।

আয়োজক এসএম ইলিয়াস জানান, প্রায় শত বছর হলেও বিদ্যালয়ে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের কেউ উদ্যোগ এর আগে নেয়নি। সবাইকে একত্রে একটি বন্ধন সৃষ্টি করতেই এই আয়োজন।

আয়োজক ইমিতয়াজ আহম্মেদ শাওন জানান, বন্ধু ও স্যারদের একসঙ্গে দেখতে পারার পাশাপাশি পুরনো দিনে ফিরে যেতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মব্যস্ততায় দীর্ঘদিন অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ হয় না। সবাইকে মিলিত করারা কঠিন হলেও প্রতিটি দিন একসঙ্গে আনন্দ কাটুট এই প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, প্রাণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিথির বক্তব্য দেওয়ার কিছু নেই। দেশ ও জাতির কল্যাণে ৯৫ বছরের পুরনো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবদানের শেষ নেই। আগামী প্রজন্মকে সুশিক্ষায় তৈরি হতে হবে, যাতে দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে পারেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, শিক্ষাজীবনের শুরুটা হয়েছিল এই বিদ্যালয় থেকে। অনেক শিক্ষক আমাদের মধ্যে নেই কিন্তু তাদের ভুলে গেলে চলবে না। শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে। শিক্ষাগুরুদের সম্মান করলে আপনি, আমি সবাই সমাজের সবখানে সম্মান পাবো। এই বিদ্যালয় থেকে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়ুক সবার জীবনে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী সিদ্দিকী বলেন, মনোমুগ্ধকর এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে দারুন খুশি। প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এমন আয়োজন করা উচিত।

জনপ্রিয়