
পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের ছুটি শেষে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। শনিবার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের সব কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে আয়োজন করা হয় ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানও।
এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লকের শহীদ ডা. মিলন হলে ভিসি অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলমের নেতৃত্বে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শিক্ষক, সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্সিং অফিসার ও রেসিডেন্ট এবং সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কর্মচারীদের নিয়ে ঈদ পুনর্মিলনীর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে২৮ মার্চ থেকে টানা আটদিনের ছুটিতে যায় রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, অফিস, বৈকালিক স্পেশালাইজড কনসালটেশন সার্ভিস ও সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনসালটেশন সার্ভিস বন্ধ ছিলো। তবে রোগীদের সেবায় ২৯ মার্চ ও ২ এপ্রিল হাসপাতালের বহির্বিভাগ খোলা রাখা হয়।
শনিবার ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রোভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. রুহুল আমিন, মেডিকেল টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সফি উদ্দিন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ প্রমুখ উপস্থিত থেকে শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট, কর্মকর্তা, নার্স, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টসহ কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় বিএমইউর পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু নোমান মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দিন, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার-১ ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন টিটো, অতিরিক্ত পরিচালক (সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল) ডা. মো. শাহিদুল হাসান, অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কামরুন নাহার, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের বিএমইউ শাখা সভাপতি ডা. মো. আতিয়ার রহমান, সহকারী প্রক্টর ডা. মো. শাহরিয়ার শামস লস্কর, উপ-রেজিস্ট্রার (আইন, অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. আবু হেনা হেলাল উদ্দিন আহমেদ, ভিসির একান্ত সচিব ডা. মো. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব ও মো. লুৎফর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ৩১ মার্চ সকাল ৮টায় বিএমইউ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে সালাত আদায়ের জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অংশগ্রহণ করেন।
বিএমইউতে চিকিৎসাধীন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধাসহ রোগীদের জন্য উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। এছাড়া ঈদের দিন বিএমইউ ভিসি শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগ এবং শিশু নেফ্রোলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন শিশুদের ঈদের উপহার দেন। একই সঙ্গে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গেও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।
বিএমইউ সূত্র জানায়, পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের ছুটির দিনগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থার কোনো ঘাটতি যেন না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাই নির্দেশ দিয়েছিলেন ভিসি অধ্যাপক শাহিনুল আলম। সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগ রোগীদের সুবিধার্থে ২৯ মার্চ ও ২ এপ্রিল খোলা ছিলো। ওই দুইদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে দুই সহস্রাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এছাড়া প্রতিদিনই বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ইনডোর ও জরুরি বিভাগ প্রচলিত নিয়মে খোলা ছিলো। একইসঙ্গে চালু ছিলো জরুরি ল্যাব কার্যক্রম সেবাও। ২৯ মার্চ, ঈদ-উল ফিতরের দিন (৩১ মার্চ) ২ এপ্রিলসহ প্রায় প্রতিদিনই ভিসি হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবার খোঁজ-খবর নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলেন, পবিত্র ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে ২৮, ৩০, ৩১ মার্চ এবং ১, ৩ ও ৪ এপ্রিল বিএমইউর বহির্বিভাগ বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে ২৮ মার্চ এবং সাপ্তাহিক ছুটি উপলক্ষে ৪ এপ্রিল বহির্বিভাগ বন্ধ থাকবে। বন্ধের দিনগুলোতে ২৯ মার্চ শনিবার থেকে ৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস, অফিস, বৈকালিক স্পেশালাইজড কনসালটেশন সার্ভিস, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনসালটেশন সার্ভিস বন্ধ থাকবে।