
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ড ব্যবহার করে ঈদের আগে পণ্য তুলতে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ মিরাজ হোসাইন। তবে বিধি বাম, পণ্য তোলার সময় জানতে পারেন, তার কার্ড বাতিল হয়ে গেছে। বরিশাল মহানগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের এই বাসিন্দারই যে কার্ড বাতিল হয়েছে তা নয়, সেই তালিকায় রয়েছেন বরিশাল মহানগরের প্রায় ৮ হাজার কার্ডধারী।
বিতরণের সময় অ্যাকটিভ (সচল) না করায় কার্ডগুলো বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়। পণ্য না পাওয়া কার্ডধারীরা এর জন্য দুষছেন টিসিবি ও সিটি করপোরেশনকে। কেননা কার্ডগুলো সচল করার দায়িত্ব ছিল বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ওয়ার্ড সচিবদের।
ভুক্তভোগী মিরাজ বলেন, যখন কার্ড দিল তখন কেন অ্যাকটিভ করে দিল না। এটি অ্যাকটিভ করার ক্ষমতা কেবল ওয়ার্ড সচিবের।তাছাড়া টিসিবি কর্তৃপক্ষ কী কোথাও ঘোষণা দিয়েছে, গ্রাহকের কার্ডটি অ্যাকটিভ করতে হবে? তাদের দায়িত্বে অবহেলা কারণেই এত ঘটা করে দেওয়া স্মার্ট কার্ড বাতিল হলো।
একই অভিযোগ ভুক্তভোগী দীপা রানী দাস, জাফর জমাদ্দার, দুলাল হোসেনসহ আরও অনেকেই। তারা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন, টিসিবি কিংবা বিসিসি কেন বিষয়টি গ্রাহককে জানাল না। এর দায় এখন কে নেবে?
বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর সময়ে নগরের ৩০টি ওয়ার্ডে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৯০ হাজার ম্যানুয়াল কার্ড। এর মধ্যে গত জানুয়ারিতে ৬০ হাজার বাতিল করে টিসিবি কর্তৃপক্ষ। যাচাই-বাছাই শেষে গত মার্চে প্রায় ৩১ হাজার ৭০০ স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করে মন্ত্রণালয়। কিন্তু ওয়ার্ড সচিবেরা সচল না করায় প্রায় ৮ হাজার কার্ড বাতিল হয়ে যায়।
এদিকে, নতুন ৬৮৭টি স্মার্ট কার্ড পাওয়ার কথা জানিয়ে সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব জাকির হোসেন বলেন, ৬৮৭ টি কার্ডের মধ্যে ১০-১২টি অ্যাকটিভ না করায় বাতিল হয়েছে। যদিও স্থানীয় এক রাজনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই ওয়ার্ডের প্রায় ১০০ স্মার্ট কার্ড বাতিল হয়েছে।
কার্ডধারীরা সচেতন নয় উল্লেখ করে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব মো. জসিম উদ্দিন বলেন, তার ওয়ার্ডে হাজার ১৮০টি স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অ্যাকটিভ না করা ২৫০-৩০০ কার্ড বাতিল হয়েছে।
নগরীতে ৬০ হাজার ম্যানুয়াল কার্ড বাতিল হওয়ার পর প্রায় ৩১ হাজার স্মার্ট কার্ড দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বরিশাল টিসিবির সহকারী পরিচালক শতদল মণ্ডল বলেন, সঠিক সময় স্মার্ট কার্ড অ্যাকটিভ করবে সিটি করপোরেশন; কিন্তু তা করা হয়নি। আবার অনেকে কার্ড নেননি। এ রকম ৭-৮ হাজারের মতো নতুন স্মার্ট কার্ড বাতিল হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মো. রেজাউল বারী বলেন, টিসিবির স্মার্ট কার্ড বাতিলের বিষয়টি তার জানা নেই। কেন বাতিল হলো, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন।