ঢাকা রোববার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ আর্কাইভস ই পেপার

bkash
bkash
udvash
udvash
uttoron
uttoron
Rocket
Rocket
bkash
bkash
udvash
udvash

বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ

জাতীয়

আমাদের বার্তা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৪৪, ৫ এপ্রিল ২০২৫

সর্বশেষ

বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ

বাংলাদেশি পণ্যে আমেরিকার ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ আকস্মিক কোনো বিষয় নয় বলে জানালো সরকার। শনিবার এ নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের জরুরি বৈঠক শেষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

খলিলুর রহমান বলেন, এটা আকস্মিক কোনো বিষয় নয়। আমরা এর জন্য প্রস্তুত। শিগগিরই কিছু ব্যবস্থা নেবো। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

তার বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমেরিকা থেকে যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। আমাদের ওপর আরোপিত শুল্ক নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা নিজেই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হবেন। আমরা এখানে সম্ভাবনাও দেখছি। আর সম্ভাবনার বিপরীত যে বিষয়গুলো আছে-আশা করছি প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে একটা ভালো অবস্থানে যেতে পারবো।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কথা বলেন তারা। কীভাবে এই ঘাটতি কমানো হবে জানতে চাইলে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমদানি বাড়ানোর মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো যেতে পারে। আমরা পৃথিবীর বৃহত্তম তুলা আমদানিকারক। আমরা জ্বালানি পণ্য আমদানি করি। আমাদের অর্থনীতির জন্য যেসব পণ্য ভালো সেগুলো আমদানি করবো।

তিনি বলেন, ড. ইউনূসের যে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা যেটাকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করবো। তিনি আমাদের সম্পদ।

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরো বলেন, শুল্কের বাইরে কিছু বাণিজ্য বাধা আছে সেগুলো অপসারণের মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করি। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আমদানি বৃদ্ধি একটি ব্যবস্থা। আমরা প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করবো। আমাদের ধারণা, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো না। আমাদের পণ্য বৈচিত্র ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে অনেক ম্যাচিউরড। এটা সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের শতাধিক দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ৩৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের মুখোমুখি হবে।

এতদিন বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ছিলো গড়ে ১৫ শতাংশ, যা এখন বেড়ে হল মোট ৫২ শতাংশ।

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৫ হাজার ৪০৭ কোটি টাকার ২৫ লাখ ৭৮ হাজার টন পণ্য আমদানি করেছে; যেখান থেকে আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আদায় করেছে ১ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ গড়ে এসব পণ্যে বাংলাদেশ ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ শুল্ক আদায় করেছে।

ওই অর্থবছর বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি আমদানি করেছে স্ক্র্যাপ আয়রন। ৬ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ আয়রন আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ শুল্ক আদায় করেছে ২১০ কোটি টাকা।

আড়াই হাজার সিসির বেশি এবং তিন হাজার সিসির বেশি বা সমান নয় এমন ইঞ্জিনের ১১১টি গাড়ি আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ খরচ করেছে ৮০ কোটি টাকা; শুল্ক আদায় করেছে ১৫৪ কোটি টাকা।

ডিজেল বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভ আমদানি করা হয়েছে ৫২৪ কোটি টাকার; শুল্ক আদায় করা হয়েছে ১০৮ কোটি টাকা।

২০০১ থেকে ২৫০০ সিসি ইঞ্জিনের ৭০টি গাড়ি আমদানি করতে খরচ হয়েছে ৩১ কোটি টাকা; বিপরীতে শুল্ক আদায় হয়েছে ৪১ দশমিক ৬৮ কোটি টাকা।

আড়াই হাজার সিসির বেশি তিন হাজার সিসির কম, এমন ইঞ্জিনের ২৬টি গাড়ি আমদানি হয়েছে। আমদানি মূল্য ছিলো ২০ কোটি টাকা; বিপরীতে শুল্ক আদায় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৮১ কোটি টাকা।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৫ লাখ ২ হাজার মেট্রিক টনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এসব পণ্যের আমদানি মূল্য ছিলো ৩০ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা; বিপরীতে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক আদায় হয়েছে ১ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এসব পণ্যের বিপরীতে গড়ে ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ শুল্ক আদায় করেছে বাংলাদেশ।

ওই অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি শুল্ক আদায় করা পণ্যের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে স্ক্র্যাপ আয়রন। ৭ হাজার ৫৭১ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ আয়রন আমদানির বিপরীতে ২৩৬ কোটি টাকা শুল্ক আদায় হয়েছে।

একই অর্থবছরে ৭০২ কোটি টাকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করেছে বাংলাদেশ; বিপরীতে শুল্ক আদায় হয়েছে ১০৫ কোটি টাকার।

আড়াই হাজার সিসির বেশি এবং তিন হাজার সিসির বেশি বা সমান নয় এমন ইঞ্জিনের ৫২টি গাড়ি আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ খরচ করেছে ৪৩ কোটি টাকা; শুল্ক আদায় করেছে ৮৩ দশমিক ১৮ কোটি টাকা।

জ্বালানি তেল আমদানি করেছে ২৯৯ কোটি টাকার; শুল্ক আদায় হয়েছে ৬২ কোটি টাকা।

ডিজেল বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভ আমদানি করা হয়েছে ২২৭ কোটি টাকার; শুল্ক আদায় করা হয়েছে ৪৭ কোটি টাকা।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চ মাস পর্যন্ত প্রথম নয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ২৭ লাখ ৭১ হাজার টন পণ্য। এর আমদানি মূল্য ছিলো ২২ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা এবং শুল্ক আদায় হয়েছে ১ হাজার ১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ গড়ে শুল্ক আদায় হয়েছে ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

 

জনপ্রিয়