ঢাকা শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ আর্কাইভস ই পেপার

bkash
bkash
udvash
udvash
uttoron
uttoron
Rocket
Rocket
bkash
bkash
udvash
udvash

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বড় পতন

আন্তর্জাতিক

আমাদের বার্তা ডেস্ক 

প্রকাশিত: ০৮:৫৭, ৪ এপ্রিল ২০২৫

সর্বশেষ

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বড় পতন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ঘোষণার একদিন পরই বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড়সড় ধস দেখা গেছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পতনের মুখে পড়েছে। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০-তে ২০২০ সালের কোভিড সংকটের পর সবচেয়ে খারাপ দিন পার করেছে। খবর বিবিসি

নাইক, অ্যাপল এবং টার্গেটের মতো বড় ভোক্তা পণ্য নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম ৯ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

এর আগে বুধবার হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, আমদানিকৃত পণ্যের ওপর কমপক্ষে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বাড়বে এবং দেশীয় শিল্পে নতুন গতি আসবে।

যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির আওতায় চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বহু দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপ করা হবে। চীনের ওপর গড়ে ৫৪ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।

উত্তরে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়েই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিনিয়োগ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

আমদানি শুল্ক মূলত বিদেশ থেকে আনা পণ্যের ওপর আরোপিত কর, এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন হার গত ১০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলেই মনে করা হচ্ছে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, এই পদক্ষেপের ফলে চলতি বছরে বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ শতাংশ কমে যেতে পারে।

বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, শুল্ক বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে।

শুক্রবার দিনের শুরুতেই এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে বড়সড় পতন দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১.৮ শতাংশ কমে যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক পড়ে প্রায় ১ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক কমে ১.৪ শতাংশ।

এর আগে বৃহস্পতিবার, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ব্যাপক ধস নামে। দেশটির শীর্ষ ৫০০ কোম্পানির শেয়ার মূল্য পর্যবেক্ষণকারী এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ৪.৮ শতাংশ পড়ে যায়, যার ফলে বাজার থেকে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য হারিয়ে যায়।

ডাও জোন্স সূচক ৪ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক প্রায় ৬ শতাংশ কমে যায়। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারবাজারে বিক্রির ঢল নামতে শুরু করে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক ১.৫ শতাংশ এবং ইউরোপের অন্যান্য বাজারগুলোও পতনের মুখে পড়েছে, জাপান থেকে শুরু করে হংকং পর্যন্ত প্রতিফলিত হয়েছে এই ধসের প্রভাব।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বাণিজ্য নীতি বৈশ্বিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার সূচনা করতে পারে।

জনপ্রিয়